শনিবার , ৪ নভেম্বর ২০২৩
২৩শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আজকের যশোর
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. গনমাধ‍্যেম
  7. চাকরি
  8. দেশজুড়ে
  9. পোর্ট থানা বেনাপোল
  10. ফিচার
  11. বাংলাদেশ
  12. বিনোদন
  13. মডেল থানা যশোর
  14. রাজনীতি
  15. শার্শা থানা

ত্রুটিপূর্ণ অস্ত্রোপচার ও ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু বাড়ছে যশোরের ক্লিনিকগুলোতে

প্রতিবেদক
Face The Jashore
নভেম্বর ৪, ২০২৩ ৪:০৩ পূর্বাহ্ণ

✍নিজস্ব প্রতিবেদক:

যশোর শহরের বেসরকারি হসপিটাল ও ক্লিনিকে ত্রুটিপূর্ণ অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা অবহেলায় রোগী মারা যাচ্ছে। এমনিভাবে গত কয়েকমাসে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন যশোর সদর উপজেলার মুনসেফপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুস সাত্তারের মেয়ে রুনা বেগম (২৬), মুড়লি মোড়ের জোড়া মন্দির এলাকার বিপ্লব হোসেনের ছেলে ইরহাম (৪১ দিন), চাঁচড়া মধ্যপাড়ার রবিউল ইসলামের মেয়ে মীম খাতুন (১২),  চাঁচড়া মধ্যপাড়ার রবিউল ইসলামের মেয়ে মীম খাতুন (১২), ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের বামন আলী চাপাতলা গ্রামের ড্রাইভার গোলাম রসুলের স্ত্রী আসমা বেগম (৩২) ও মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর  আব্দুস সাত্তার মিস্ত্রির ছেলে আব্দুল মান্নান (৪০)। এছাড়া অপচিকিৎসা ও প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জন্মের কিছু দিন পর যশোর শহরের বেসরকারি একটি হসপিটালে পায়ুপথে অস্ত্রোপচার করা হয় ইরহামের। সেই থেকে অসুস্থ ছিলো শিশুটি। ১ নভেম্বর বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে  ইরহামের শরীরে একটি ইনজেকশন পুশ করা হয়। কিছু সময় পর তার শরীর নীল রঙের হয়ে যায়। দুপুর ২ টার দিকে মৃত্যু হয় ইরহামের। স্বজনদের অভিযোগ ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা গেছে।  গত ২৯ অক্টোবর রুনা কানের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন একটি বেসরকারি হসপিটালে। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক অধ্যাপক ডাক্তার আবুু কায়সার ৩৫ হাজার টাকার চুক্তিতে রোগীর অপারেশন করেন। পরে রাতে তিনি ঢাকায় চলে যান। ফলে কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা মেলেনি। অপারেশন পরবর্তী  চিকিৎসা না পেয়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে রুনার মৃত্যু হয়। টনসিলের সমস্যা নিয়ে মীমকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে একটি হসপিটালে ভর্তি করা হয়। অপারেশনের পরের দিন সকালে মারা যায় মীম। স্বজনদের অভিযোগ, ইনজেকশন পুশ করার কয়েকদিন মিনিট পরেই মীমের মৃতু হয়। আব্দুল মান্নান। পায়ে হেটে একটি বেসরকারি হসপিটালে এসে ফিরেছেন লাশ হয়ে। অস্ত্রোপচার টেবিলেই তিনি মারা যান। ওই সময় স্বজনদের অভিযোগ ছিলো অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ছাড়াই রোগীকে অজ্ঞান করার কারণে তার মৃত্যু হয়। আর জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একটি হসপিটালে ভর্তি হয়েছিলেন মইফুল বেগম। জরুরি বিভাগ থেকে একটি ইনজেকশ পুশ করার সাথেই মারা যান মইফুল। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যু হয় আসমা বেগমের।  

সূত্র জানায়,  যশোর শহরে সরকারের নির্দেশনা না মেনে নিজেদের ইচ্ছামতো হসপিটাল ও ক্লিনিক  গড়ে বহাল তবিয়তে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে একটি মহল। না বুঝে মানুষ সেখানে চিকিৎসার জন্য গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।   একাধিক নামমাত্র বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাসেবায় ঝুঁকির আশংকা রয়েছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার জন্য এসে মাশুল গুনতে হচ্ছে রোগী স্বজনদের। চিকিৎসাসেবা নামে প্রতারণা করা যেনো মালিক পক্ষের লক্ষ্য। দালাল নির্ভর অধিকাংশ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান মালিকদের উদ্দেশ্য যেনতেন চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে কাড়ি কাড়ি টাকা কামানো। অথচ মানসম্মত অপারেশন থিয়েটার (ওটি) রোগ নির্ণয়ের জন্য উন্নতমানের কোন যন্ত্রপাতি নেই। আবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করা হলেও মুহুর্তে ফের কার্যক্রম চালু হয়ে যায়। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে তদারকি ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা না থাকার কারণে অসাধুরা অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠান চালু করার সাহস দেখাচ্ছেন। গত ৩ অক্টোবর  যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাউদের নেতৃত্বে কয়েকটি হসপিটাল- ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় আল হায়াত হাসপাতাল এন্ড ডায়াগন্টিক সেন্টার, সিটি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগন্টিক সেন্টার, যশোর আই কেয়ার এন্ড লেজার সেন্টার, সিটি হাসপাতাল ফার্মেসী ও আল হায়াত ফার্মেসীসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন।  

ঘোপ সেন্ট্রাল রোডে অবস্থিত সিটি হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবার নামে প্রতারণার অভিযোগ ছিলো। কনসালটেন্ট চিকিৎসক ছাড়াই রোগীদের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছিলো। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায়  সেখানকার প্যাথলজি বিভাগ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যশোর আই কেয়ার এন্ড লেজার সেন্টারে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে চিকিৎসা প্রতারণা করা হচ্ছিলো।  বৈধ কাগজপত্র নেই প্রতিষ্ঠানটির।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস জানান, নামমাত্র এসব হসপিটাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছাড়া বন্ধ করা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কোন হাসপাতাল ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা পরিচালনার সুযোগ দেয়া হবে না। ত্রুটিপূর্ণ অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনেরা অভিযোগ করলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

সর্বশেষ - আজকের যশোর