শেখ কাজিম উদ্দিন : যশোরের শার্শা উপজেলার লাউতাড়া রাবেতাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ী মৌলভী শিক্ষক আলিমুর রহমান নারী উত্যোক্তের অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছে। ৩ নভেম্বর/২০২৩ ইংরেজি তারিখ, উক্ত মাদ্রাসার আয়া ছাবিকুন নাহার তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করলে ৫ সদস্যের তদন্ত প্রতিবেদনে সত্যতা পাওয়ায় তাকে এ বরখাস্তের আদেশ দেয় ম্যানিজিং কমিটি।
তবে, মৌলভী শিক্ষক আলিমুর রহমান অজ্ঞাত ক্ষমতার বহরে বরখাস্তের আদেশ না মেনে অদ্যবধি মাদ্রাসায় স্ব-মূর্তিতে বিরাজমান এবং শিক্ষকদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সূধীবৃন্দ। এ বিষয়ে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন চলছে।
জানা যায়, লাউতাড়া রাবেতাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার মৌলভী শিক্ষক আলিমুর রহমানের দুঃসাহসিক নারী উত্যোক্তের ঘটনা প্রতিনিয়ত বে-পরোয়া হওয়ায় গত ৩ নভেম্বর/২০২৩ তারিখ, উক্ত মাদ্রাসার আয়া ছাবিকুন নাহার বাধ্য হয়ে তার বিরুদ্ধে সুপারিনটেনডেন্টের মাধ্যমে ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করে সুবিচার প্রার্থনা করেন।
লাউতাড়া রাবেতাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার আয়া ছাবিকুন নাহারের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, তিনি চাকুরিতে যোগদানের পর থেকেই উক্ত মাদ্রাসার ইবতেদায়ী মৌলভী শিক্ষক আলিমুর রহমান প্রায় তার শরীরে হাত দিয়ে উত্যোক্ত করে। এ নিয়ে বারবার মৌলভী শিক্ষককে নিষেধ করলেও তিনি তা আমলে না নিয়ে আরও বে-পরোয়া হয়ে ওঠে। বেহায়াপনার একপর্যায়ে আয়ার ৫ বছরের শিশু কণ্যার সামনে তার মায়ের শরীরে হাত দিয়ে উত্যোক্ত করলে কোমলমতি শিশুটি মৌলভী শিক্ষককে প্রতিবাদ জানায়। বিষয়টি খুবই লজ্জার হওয়ায় আর চেঁপে রাখতে না পেরে তিনি সুবিচার পাইবার জন্য এ অভিযোগ করেন।
আয়া’র এ আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি আমলে নিয়ে উক্ত মাদ্রাসার সভাপতি আকরাম হোসেন ৫ সদস্য বিশিষ্ঠ তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং তাদেরকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন।
অজ্ঞাত ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, ইবতেদায়ী মৌলভী শিক্ষক আলিমুর রহমান নারী উত্যোক্তের অভিযোগে সাসপেন্ড হলেও তার অপ-শক্তির বহরে বহাল তবিয়তে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক জল্পনা কল্পনা অব্যাহতভাবে চলছে। স্থানীয়রা আরও বলছেন তিনি একাধিকবার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ নারী শিক্ষকদের উপর কূ-দৃষ্টি ও উত্যোক্ত করলেও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহসটি পর্যন্ত কেউ রাখেনি।
সরেজমিনে লাউতাড়া রাবেতাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় কথা হয় উক্ত মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট ওবায়দুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, এ মর্মে ৫ সদস্য বিশিষ্ঠ তদন্ত কমিটির নিরিবিলি পর্যবেক্ষণে অভিযুক্ত ইবতেদায়ী মৌলভী শিক্ষক কোন বিতর্ক ছাড়াই অভিযোগের বিষয়টি সত্য, তবে একদিন মাত্র গায়ে হাত দিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। যা গত ১০ সেপ্টেম্বর/২৩ ইংরেজি তারিখ ম্যানিজিং কমিটির কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন।
এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় অভিযোগকারি আয়া ছাবিকুন নাহার ও অভিযুক্ত মৌলভী শিক্ষক আলিমুর রহমানের সাথে। অভিযোগকারি তার লিখিত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। এছাড়া অভিযুক্ত মৌলভী শিক্ষক বিষয়টি অন্যভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন এবং তিনি তার বরখাস্তের বিষয়টি না মেনে এখনও পর্যন্ত নিয়মিত মাদ্রাসায় ক্লাস নিচ্ছেন বলে জানান। তিনি বলেন, আমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠালগ্নে এখানে কিছু জমি দান করেছিলাম।
এ বিষয়ে লাউতাড়া রাবেতাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি আকরাম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি মানবিক হওয়ায় এবং আরও তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত মৌলভী শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
কথা হয় শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান চৌধূরীর সাথে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি ম্যানিজিং কমিটির কাছ থেকে কিছু জানেননি। তবে লোকমুখে শুনেছেন একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।












