নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আর নয় খুলনা, এবার যশোরেই মিলবে এইচআইভি/এইডস রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা। ইতিমধ্যে হাসপাতালে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার পার্থ প্রতীম চক্রবর্তী। আজ এন্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টারের উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) রাশেদা সুলতানার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
সূত্র জানায়, বিগত দিনে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বিভিন্ন বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এইডস রোগীদের টেস্ট ও কাউন্সিলিং করা হতো। যাদের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল তাদের খুলনায় রেফার করতে হতো। কেননা, এ হাসপাতালে কোনো এন্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার ছিল না। এতে করে যশোরবাসীর একমাত্র ভরসাছিল খুলনা। যাতায়াত বিড়ম্বনা ও ব্যয়ের কথা চিন্তা করে অনেকে এ রোগের চিকিৎসা গ্রহণ করতেন না। তবে, আজ থেকে এই হাসপাতালে এইচআইভি রোগীরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিনামূল্যে ওষুধ ও প্রয়োজন হলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন।
পরিসংখ্যান বলছে, যশোরে গত ১৭ বছরে মরণব্যাধি এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত হয়েছে ১৪৬ জন। এরমধ্যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী ও শিশু। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এইডস ঝুঁকিতে রয়েছে যশোর। ২০০৬ সাল থেকে এইচআইভি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয় যশোরে। ২০০৬-২০২২ পর্যন্ত ১৪৬ জন নারী-পুরুষের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ২০০৮ সালে দু’জন, ২০১০ সালে সাতজন, ২০১১ সালে ছয়জন, ২০১২ সালে নয়জন, ২০১৩ সালে আটজন, ২০১৪ সালে ২৩ জন, ২০১৫ সালে ৩৩ জন, ২০১৬ সালে ১৩ জন, ২০১৭ সালে আটজন, ২০১৮ সালে ছয়জন, ২০১৯ সালে ১০ জন, ২০২০ সালে ১০ জন, ২০২১ সালে একজন, ২০২২ সালে ১০ জন এবং ২০২৩ সালে সরকারি এমএম কলেজের তিন শিক্ষার্থীসহ সাতজন রয়েছেন।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার পার্থ প্রতীম চক্রবর্তী জানান, যশোরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ হাসপাতালে একটি এন্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার স্থাপনের। এখন থেকে নিয়মিত এখান থেকে যশোরসহ আশপাশের জেলার মানুষ সেবা নিতে পারবেন। এ রোগে আক্রান্ত হলে লজ্জা না পেয়ে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। কেননা এ সকল রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য শতভাগ নিরাপদ থাকে। তাই স্বচ্ছন্দ্যে এ জেলার মানুষ এ কর্নার থেকে সেবা নিতে পারেন।









