✍বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার যুবক আব্বাস শেখ (২৫) বিয়ে করেছেন। তার স্ত্রী সোনিয়া খাতুনের (২০) উচ্চতা উচ্চতা ৩ ফুট ১ ইঞ্চি। শুক্রবার বিকেলে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
এদিন খুলনার ডাক বাংলো এলাকার সেলিম গাজীর মেয়ে সোনিয়া খাতুনের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের দেনমোহর ধার্য করা ১ লাখ টাকা। আব্বাস শেখ রামপাল উপজেলার শ্রিফলতলা গ্রামের আজমল শেখের ছেলে। তিনি রামপাল সরকারি কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার স্ত্রী সোনিয়া খাতুন খুলনার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ছোটবেলা থেকেই আব্বাসের উচ্চতা অনেক কম। যার কারণে বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী, সহপাঠী ও এমনকি আত্মীয়-স্বজনদের কাছে হাসির পাত্র ছিলেন । কিন্তু সব মানুষের উপহাস পেছনে ফেলে পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন আব্বাস। স্নাতক পাস করার পর মাস্টার্স সম্পন্ন করার ইচ্ছে রয়েছে তার। স্ত্রীকেও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন আব্বাস শেখ।
আব্বাস শেখ বলেন, শারীরিক উচ্চতা কম হওয়ায় অনেকেই আমাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করেন। কারো কথা নিয়ে আমি মাথা ঘামায় না। বন্ধুরা বলতো, আমি কখনো বিয়ে করতে পারব না। আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না। আল্লাহর রহমতে বিয়ে করেছি। শান্তিতে সংসারও করবো।
সোনিয়াকে কীভাবে পেলেন এমন প্রশ্নে আব্বাস বলেন, বছর দেড়েক আগে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে পছন্দ করে রেখেছিল। গত ২০ অক্টোবর দুই বোন জামাইসহ আমি সোনিয়াকে দেখতে যাই এবং তাকে আমার পছন্দ হয়। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আমি আমার স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি।
আব্বাসের মা নাজমা বেগম বলেন, ছোটবেলায় এক হাতে বই আর এক হাতে ছেলেকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছি। অনেক কষ্টে ও মানুষের কথা শুনে ছেলেকে পড়ালেখা শিখিয়েছি। আমার দুইটি মেয়ে রয়েছে। আব্বাস আমার একমাত্র ছেলে। অনেক কষ্টের ধন আমার।
রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. আশরাফুল আলম বলেন, আমি আব্বাসকে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেখেছি। বিয়েতে আমাকে দাওয়াত করেছিল। তার গায়ে হলুদে উপস্থিত ছিলাম। নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাই।
তিনি বলেন, খর্বাকৃতির মানুষদের নিয়ে হাসি ঠাট্টা না করে তাদের প্রতিটি কাজে উৎসাহ দেয়া প্রয়োজন। কারণ, তারা আমাদের সমাজের বোঝা নয়। তাদের প্রতি যতœবান হলে তারাও সম্পদে পরিণত হবে।









